নব্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

নব্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?

নব্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় শিল্প বিকাশ, অর্থনৈতিক কাঠামো, গণতান্ত্রিক চর্চা, বাণিজ্যিক বিকাশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নত ও অনুন্নত দেশের মধ্যে যোজন যোজন পার্থক্য।

পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিকল্পিত নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল ধনী-দরিদ্র ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং একটি সুষম অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৭১-১৯৮১ পর্যন্ত সময় উন্নয়ন দশক হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন পদ্ধতি গ্রহণ করে। উন্নয়নশীল দেশসমূহকে ৬ শতাংশ হারে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং উন্নত দেশগুলোকে তাদের মোট জাতীয় উৎপাদনের ১ শতাংশ সম্পদ দিয়ে সাহায্য করার কথা বলা হয়।

শর্তহীনভাবে এবং কোনো নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য না রেখে যথাসম্ভব বেশি সাহায্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। জাতিসংঘ সাধারণ সভায় ১৯৭৪ সালে নব্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নামক পরিকল্পনাটি পাস হয়।

সুতরাং নব্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলতে আমরা বুঝি যে, জাতিসংঘের যে পরিকল্পনার মাধ্যমে বিনাশর্তে উন্নত ও অনুন্নত দেশসমূহের মধ্যকার শিল্প, অর্থনৈতিক , বাণিজ্যিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমিয়ে আনা ও সুষম অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

নব্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপাদান

১. সার্বভৌমত্বের সমতা আনয়ন
২. বহুজাতিক সংস্থার নিয়ন্ত্রণ
৩. নিজস্ব সম্পদের উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব
৪. অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানসমূহের আমূল সংস্কার
৫. মুক্ত বাজার অর্থনীতি
৬. বৈদেশিক সম্পর্ক
৭. উৎপাদিত দ্রব্যাদির নায্য মূল্য
৮. বৈদেশিক সাহায্য
৯. প্রযুক্তির বিকাশ


আরও পড়ি…. টিয়া : বাংলাদেশে কত প্রকার টিয়া আছে এবং কি কি ?


সার্বভৌমত্বের সমতা আনয়ন

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে সমতা আনয়ন করা নব্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধানতম উপাদান। সকল দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সকলেই শ্রদ্ধাশীল হবে।

বহুজাতিক সংস্থার নিয়ন্ত্রণ

সার্বিক উন্নয়নের জন্য বহুজাতিক সংস্থাসমূহকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও স্ব স্ব স্বাগতিক দেশসমূহের থাকতে হবে এবং সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ ভার বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন বহুজাতিক সংস্থার ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ কিছু নিয়মাবলি।

নিজস্ব সম্পদের উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব

একটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বিকশিত হতে হলে নিজস্ব সম্পদের উপর উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকতে হবে।

অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানসমূহের আমূল সংস্কার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ওগঋ, ডড়ৎষফ ইধহশ ইত্যাদি অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানসমূহ উন্নত রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থই সংরক্ষণ করে থাকে। সুতরাং তৃতীয় বিশ্বেও দেশসমূহের স্বার্থে এ সমস্ত উল্লিখিত সংস্থাসমূহের আমূল সংস্কার একান্ত প্রয়োজন।

মুক্ত বাজার অর্থনীতি

শর্তহীনভাবে উন্নত বিশ্বের বাজারে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পণ্যেও সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বৈদেশিক সম্পর্ক

উন্নত রাষ্ট্র থেকে অনুন্নত রাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির রপ্তানির ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং এ সম্পর্কিত কঠোর শর্তসমূহ সহজতর করা।

উৎপাদিত দ্রব্যাদির নায্য মূল্য

অনুন্নত দেশসমূহের উৎপাদিত পণ্যের সুষম ও বাস্তবমুখী বাজারজাতকরণের জন্য সমন্বিত পণ্য কর্মসূচি থাকা একান্ত প্রযোজন। এর ফলে অনুন্নত বিশ্বে উৎপাদিত দ্রব্যাদির নায্য মূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে অনুক‚ল পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

বৈদেশিক সাহায্য

উন্নত দেশসমূহের জাতীয় আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ উন্নয়নশীল দেশের জন্য বরাদ্দ করা প্রযোজন।

প্রযুক্তির বিকাশ

উন্নত দেশসমূহের কার্যকর প্রযুক্তিসমূহ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব মুক্তভাবে উন্নয়নশীল দেশে বিস্তারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close