ঘুঘু পাখি ! বাংলাদেশের ঘুঘু পরিচিতি

Dove! How many types of doves are there in Bangladesh?

মাঘ মাস । ভোরবেলা কাঠবাদামের ডালে বসে রোদ পোহাচ্ছে দুটি ঘুঘু পাখি । ওই গাছটির মাথায় গুচ্ছ গুচ্ছ পরগাছা, ভেতরে ঘুঘু দুটির বাসা । বাসায় দুটি বাচ্চা । বয়স ১১ থেকে ১২ দিন, পালক ফুটেছে, আর ডানায় শক্তিও এসেছে ।

ভোর বেলায় আজ পেটে কিছু পড়েনি । খিদে তো আছেই । মাঘের শীতেও কাহিল ওরা । দুজনেই পাখা নেড়ে গলায় তুলেছে খিদের কান্না, শীতের কান্না ।

মা বাবা পাত্তাই দিচ্ছে না । দেবেই বা কেন ! মা বাবা তো জানে ওরা লাফ দিয়ে নিচের এই ডালেও নামতে পারবে । মা-বাবা চাইছে ওরা বাসা ছেড়ে লাফ দিক ।  তারপরও খাওয়াবে । এটাও এক ধরনের ট্রেনিং ।

অস্থির বাচ্চা দুটি সত্যিই বাসা ছাড়লো । পরগাছার ঘন ডালপালার ভেতর থেকে আনাড়ির মত উড়ে এসে বসল মা-বাবার পাশে । কি খুশি ওরা উড়তে পেরে ! যেন এইমাত্র রাজ্য জয় করেছে ! বোকা বোকা চোখে দেখছে চারপাশের পৃথিবী । এতোদিন বাসায় থেকে তো চারপাশটা, আকাশটা এভাবে দেখতে পারেনি ওরা । চোখ ভরা তাই বিস্ময় ।

ওদেরকে বিস্ময়ের ঘোরে রেখেই মা-বাবা ডানায় ফুরফুর শব্দ তুলে উড়ে চলে গেল । এইযে যাওয়া তাতে মিশে আছে খুশি । বাচ্চারা আর দু চার দিনের ভেতর উড়তে শিখে যাবে । আরো ক’দিন বাদে হয়ে যাবে স্বাবলম্বী । মা-বাবার ছুটি মিলবে ।

মা-বাবা চলে যেতেই বাচ্চা দুটি নিজেদের অসহায় মনে করল । বাসা ছেড়ে এই প্রথম বাইরে । ভয়তো একটু লাগবেই । ঘন ঘন ঘাড় মাথা নেড়ে তাকাচ্ছে এদিক-ওদিক । না ভয়ের কিছু নেই ।

দুটিতে ডালে বুক মিশিয়ে পাশাপাশি রোদ-পিট হয়ে বসলো । কি মিষ্টি রোদ ! আর ওরা কিনা এতদিন বাসার ছায়ায় বসে শীতে কষ্ট পেয়েছে । অবশ্য রাতে আর খুব ভোরে মায়ের বুকের গরমে থাকা গেছে আরামে । আহারে মায়ের বুক ! দুনিয়ার সব সুখ ওখানে ।

ও পাশের রাজ শিরীষের ডালে এসে বসলো একটি শিকরা বাজ । নড়ল না বাচ্চা দুটি । ভাজা মাছটিও উলটে খেতে জানেনা, এমন ভঙ্গিতে বাজটি, তারপর কাঠবাদামের মাথার অনেক উপরে উঠে গেল ।

আচমকা ঘুরে এসে ঝড়ের বেগে নেমে এলো ঘুঘুর বাচ্চাদের দিকে । ভয়ার্ত বাচ্চা দুটির পিলে গেল চমকে, গলায় ভয়ের শব্দ তুলে একটি ঢুকে পড়লো পরগাছার ভেতর, বসলো বাসায় । অন্যটি শিকরার নখরে গাঁথতে গাঁথতেও মুক্তি পেয়ে গেলো সরা ডালটার কারণে ।

দিশেহারা হয়ে সে পালাতে চেয়ে মুখ থুবড়ে পড়লো মাটিতে । অবিশ্বাস্য দ্রুততম শিকরাবাজ ঘুরে এসেই ছো মারলো মাটিতে । না ঘুঘুর বাচ্চা ঢুকে পড়েছে একটি কাটাঝোপের তলায় ।

ব্যর্থ গলায় ব্যর্থতার আওয়াজ তুলে নিজেকে ধিক্কার দিয়ে আবার বসল গিয়ে রাজ শিরীষের ডালে । দেখছে ঘুঘূর বাচ্চাটির কয়েকগুচ্ছ পালক কিরকম তুলোর মতো পাক খেতে খেতে মাটির দিকে নামছে । তারই  নখরে বিঁধে খুলে গেছে ওই পালকগুলো । আসল শিকার গেছে ফসকে ।

ঘুঘু
বাংলাদেশের ঘুঘু (হরিয়াল ঘুঘু)

যে ঘুঘুর কথা লেখার শুরুতে বলেছি ওরা ছিল তিলা বা ছিট ঘুঘু । বাচ্চার জন্য বাংলাদেশের সব ঘুঘুই কম বেশি কাঁদে । কিন্তু ওরাই কাঁদে উচ্চস্বরে । চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত । ওরা তো আর মানুষের মত কাঁদতে পারেনা, ডাকে । ওই ডাক শুনলে একজন মানব শিশুও বুঝতে পারে ওই ঘুঘুটি কাঁদছে ।

পৃথিবীতে কত রকম ঘুঘু আছে ?

অতি সংক্ষেপে জানা যাক বংশপরিচয় । দুনিয়ায় বর্তমানে যে ২৮৯ রকম পায়রা দেখা যায়, তাদের সবারই আদিপুরুষ হচ্ছে বুনো কবুতর । আমরা যাদের জালালি কবুতর বলি ওরাই হচ্ছে বুনো কবুতর । পায়রা বা কবুতর আর ঘুঘুরা হচ্ছে এই পরিবারের পাখি । এই পরিবারের পাখি প্রজাতির সংখ্যা ২৮৯ টি ।

বড়গুলোকে বলা হয় পায়রা ও অপেক্ষাকৃত ছোট গুলোকে ঘুঘু । পায়রাদের লেজ খাটো ধরনের, ঘুঘুদের লম্বাটে ।

ঘুঘুদের পা ছোট, ঘাড় খাটো । শরীরের তুলনায় মাথা ছোট ও গোলাকার । সুন্দর চোখ । ছোট ঠোঁট, আগার দিকটা ভেতর মুখো কিছুটা বাঁকা । ঠোঁটের মাঝখানটা পাতলা । নাকের ছিদ্র সুস্পষ্ট ।

ঠোঁট নলাকৃতির । শরীরে ছাই ও বাদামি রং এর ভাগ বেশি । পালক চ্যাপ্টা ধরনের । সহজে মাটিতে নামতে পারে, দ্রুত উড়তে পারে । আচমকা ঘুরতে পারে । বাসা বাঁধার মৌসুম ছাড়া ঝাঁকে থাকতে পছন্দ করে । সবারই গলার স্বর মিষ্টি ও মোলায়েম ধরনের । শত্রুকে আক্রমণ করতে পারে না বা জানে না ।

ঘুঘুদের খাদ্য

ধান, গম, তিল, সরিষা সহ নানা রকম শস্য ও বীজ, শাক-সবজি, নরম ঘাসও খায় শরীরে লবণের চাহিদা পূরণের জন্য । অনেক প্রজাতির ঘুঘু ফলসহ পোকামাকড়-কীটপতঙ্গ খায় ।  সবাই জল পান করে ঠোঁট জলে ঢুকিয়ে, মাথা-ঠোঁট উঁচু করে । জলপানের দৃশ্য খুবই চমৎকার । সবাই মাটিতে নামে, হাঁটতে জানে ভালো । বেশ চতুর ।

বাসা, ডিম, বাচ্চা

সব ধরনের ঘুঘু বাসা করে দায়সারা গোছের । কাটি কুটি শুকনো ঘাস – লতা ফেলে কোন রকমে ডিম পাড়তে পারলেই যেন হলো । ঝোপঝাড়, গাছের ডাল হোক উঁচু বা নিচুতে ,পছন্দসই জায়গা পেলেই বাসা করে ।

বছরে কমপক্ষে এক জোড়া ঘুঘু ৩ বার বাচ্চা  তোলে ।ডিম খোয়া গেলে সে সংখ্যা পাঁচবার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে । বাসা বাঁধার সময় সতর্ক থাকে । জায়গা নির্বাচনে লাগাই ১ থেকে ২ দিন । বাসা তৈরি শেষ হয় ২-৪ দিনে । বাসার কাছে ডিম কেক খেকো সাপ দেখলে ভয়ে পালায় ।

অধিকাংশ ঘুঘুই দুইটি ডিম পাড়ে। সাদা রংয়ের, কোন কোন ডিমের রং ঘোলাটে হলদে । মেয়ে পুরুষ পালা করে ডিমে তা দেয় । তবে মেয়েটির ভাগে বেশি পড়ে ।

গড়ে  ১২ থেকে ১৭ দিনে ডিম ফুটে । মা বাবা পালা করে খাওয়ায় । প্রথমদিকে বাচ্চাদের এক ধরনের তরল খাদ্য পেট থেকে উগরে দেয় । এ সময় গলা বুক কাঁপে ছন্দময় ভঙ্গিতে । এই খাদ্যকে বলা হয় পায়রার দুধ !

পায়রা দুধ ? বিষয়টি বেশ মজার তাই না ? ১০ থেকে ১৩ দিন পরে বাচ্চারা ডানা মেলে উড়তে শেখে । স্বাবলম্বী হয় আরো ৬ থেকে ১২ দিন পরে । বাচ্চারা হয় জন্মান্ধ  আর খাই খাই স্বভাবের । নিজেদের মধ্যে মারামারি করে । খিদের কান্না বেশ দূর থেকে শোনা যায় ।

ঘুঘুরা খুব নিরীহ পাখি । মেয়ে পুরুষ আলাদা করা সহজ নয় । প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু দ্বীপ ছাড়া বিশ্বের সব দেশে ঘুঘু দেখা যায় । সবচেয়ে ছোট যে ঘুঘু তার নাম মাটি ঘুঘু । শরীরের মাপ প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার । হরিয়াল হচ্ছে ঘুঘুদের জাতভাই । আমাদের দেশে চার থেকে পাঁচ রকম হরিয়াল ঘুঘু আছে ।

ধবল বা রাজ ঘুঘু

স্বাস্থ্যবান, গোলগাল ধরনের পাখি । খোলা মাঠ পছন্দ । শরীরে সাদাটে সাদাটে বাদামির ভাগ বেশি । পা গোলাপী । ঠোঁট কালচে । ঘাড়ে কালো টান আছে । বুক মাটিরাঙ্গা বাদামি । আঞ্চলিক ভাষায় বাগেরহাট খুলনা এলাকায় বলা হয় ধলি বা ধইলে ঘুঘু ।

ঘুঘু
ধবল বা রাজ ঘুঘু

দু’যুগ আগে  প্রচুর ছিল । এখন দেখাই যায় না বলতে গেলে । প্রায় বুনো কবুতরের মত বড় । শরীরের মাপ ৩২ সেন্টিমিটার । ইংরেজি নাম  Eurasiam Collerd Dove.

তিলা ঘুঘু বা সিট ঘুঘু

ঘুঘু
তিলা ঘুঘু বা সিট ঘুঘু

ঢাকা শহরেও (বন বাগান পার্কে) দেখা যায় । বাংলাদেশ এদের সংখ্যা বেশি ।  লম্বা ৩০ সেন্টিমিটার । মাথার চাঁদি বাদামি, সাদা সাদা ছিট ও সোপ ঘন হয়ে আছে । পিঠে সে ছিট ও ছোপ ছড়িয়েছে ক্রমশ পাতলা হয়ে । পিঠ সাদাটে । মাঠ বাগান সর্বত্রই দেখা যায় । কণ্ঠস্বর “কুর কুর কুর- কুরু.. কুরু.. কুরু..” ।

ডানায় পটপট শব্দ তুলতে পারে । এদের বাসায় ডিমে কেউ হাত দিলে সেই ডিম ওরা খেয়ে ফেলে । বাচ্চা হারানোর শোকে ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত কাঁদে । আঞ্চলিকভাবে এদের পাতিঘুঘুও বলা হয় । ইংরেজি নাম Spotted Dove. মাপ  ৩০ সেন্টিমিটার ।

বাঁশ ঘুঘু

ঘুঘু
বাঁশ ঘুঘু

বাগেরহাট খুলনায় বলে বাস ঘুঘু বাঁশঘুঘু । বন বাগান, ঝোপ-ঝাড় বেশি পছন্দ । ওড়েও মাটির অল্প ওপর দিয়ে । দ্রুত উড়তে পারে । এত নিচ দিয়ে উড়ে যে, অনেক সময় বেজি বা বন বিড়াল আচমকা থাবা মেরে এদেরকে কুপোকাত করে । এরা একটা নির্দিষ্ট পথ ধরে উড়ে । বেজি বন বিড়াল তা জানে ।

বাগেরহাট খুলনা এলাকায় কুসংস্কার আছে যে এদের ডানার বাতাস লাগলে কালাজ্বর হয় । ব্যাপারটি একেবারেই মিথ্যা ।

এরা লম্বায় ২৭  সেন্টিমিটার । পোড়া ইটের মত রং হয় পিঠের । মাথা গোলাপি-বাদামি । ডানার উপরের প্রান্তে, ঘাড়ের কাছে একটু ছাইরং মাখা । লেজের উপরি ভাগের গোড়ায়ও একই রং । ঠোট লাল, পা লালচে, গলা বুক  লালছে ধুসর । মেয়ে-পুরুষ পাখি দেখতে মোটামুটি একই রকম । মেয়েটির ডানার প্রান্তে ছাই-ধুসর টিপ রঙ নেই ।

ঘন-বনবাগান বেশি পছন্দ করে । বাঁশবন খুবই প্রিয় । বাঁশের কঞ্চিতে বাসা বেশি করে । মেয়ে-পুরুষ দুটিরই চোখের উপর দিয়ে ছাইরঙা টান আছে । খুবই সুন্দর ঘুঘু এরা । এদের ইংরেজি নাম- Emerald Dove. মাপ ২৭ সেন্টিমিটার ।

মটর ঘুঘু

ঘুঘু
মটর ঘুঘু

ইংরেজি নাম Red Collard Dove.  বৈজ্ঞানিক নাম Strep topelia tramquebarica.   বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট ঘুঘু এটি । ঘাড়ে কালো বলয় । মাথা নীলচে-ধুসর। মেরুন-গোলাপি রঙের পিঠ তথা ডানার উপরিভাগ । গলা-বুক-পেট হালকা গোলাপি । ডানার প্রান্তের পালকগুলো কালো । ঠোঁট কালো ।

ডাকে “কটর কটর কটর, বা মটর মটর” শব্দে । এটিকে তাই মটর ঘুঘু বলা হয় । ডিম পাড়ে ২ টি ।

হলুদ হরিয়াল ঘুঘু

ঘুঘু
হলুদ হরিয়াল ঘুঘু

৩৩ সেন্টিমিটার । বুক-ঘাড়-গলা হলুদ, চকচকে পা ও তাই । মাথা জলপাই সবুজ , ডানার কিনারাও তাই । ধুসর-সবুজ পিঠ । সুন্দর পাখি । চতুর । বিপদের গন্ধ পেলে গাছের ডাল-পাতার ভেতরে এমনভাবে চুপ করে মিশে থাকে যে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ।

এরা মুলত ফল খেকো । ডুমুর, বট, উড়ে আম, কলা, কুলবরই, অশ্বন্থ, পাকুর অত্যান্ত প্রিয় । এরা দলপতির অধীনে থাকে । বিপদ সঙ্কেত পাবার পর কেউ যদি চুপ করে না থেকে নড়াচড়া করে, তাহলে বিপদ কেটে যাবার পর সবাই মিলে ওই পাখিটিকে আক্রমন করে, শাস্তি দেয় । ইংরেজি নাম Footed Green Pigeon.

লোনা হরিয়াল

মাপ ২৮ সেন্টিমিটার । চকলেট-মেরুন পিঠ । মাথা ছাইরঙা । বুক-গলা-পেট সবুজাভ-হলুদ বা কমলা । ছোট হরিয়াল অনেকটা বড় হরিয়ালের মতোই দেখতে, রঙের ঔজ্জ্বল্য কম । সবুজ আর হলুদের মিশেল শরীর, তবে ম্লান ।পা আলতা-লাল ।

বড় হরিয়ালের মতোই ফল খেকো । দলবদ্ধ । দলপতি থাকে । সাবধানে থাকে ও ডাকে । কন্ঠস্বর হরিয়ালের চেয়ে জোরালো, অনেকটা তীক্ষ্ন শিসধ্বনির মতো ।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঘুঘুটির বাস সিলেট-চট্রগ্রামের টিলা-পাহাড়ময় বনে । নাম ধুমকল । ইংরেজি নাম Green Imperial pigion. বৈজ্ঞানিক নাম Ducula aenea.

শরীরের মাপ ৪৩-৪৭ সেন্টিমিটার । লোনা হরিয়ালের ইংরেজি নাম Pompadour Green Pigeon. বাংলাদেশের আরেকটি সুন্দর ঘুঘু হল লালঘুঘু । মাপ ৩৩ সেন্টিমিটার । ইংরেজি নাম Oriental Turtle Dove.

ঘুঘুরা মোটেও ভালো নেই বাংলাদেশে । সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য চট্রগ্রামের পাহাড়-টিলাময় জঙ্গলেও ভালো ওরা । খাবারের অভাব নেই । বাসা বাঁধার জায়গার অভাব নেই । অভাব শুধু ভালোবাসার । নির্বিচার শিকারের আওতায় পড়ে ওরা আজ দিশেহারা । আমরা কি কখনো সোচ্চার হবনা নিরীহ ওই সুন্দর পাখিগুলোকে বাঁচানোর জন্য ? আমাদের শিশুরা কি শুনবে না ঘুমঘুম ডাক, দেখবে না ওদের ? সুন্দর ও নিরীহ পাখি ঘুঘুদের বাঁচানোর জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোল জরুরি ।

 

শরীফ খান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close